Blog

February 12, 2026

কলিযুগের ভবিষ্যৎ — শ্রীকৃষ্ণের দৃষ্টিতে

🌿 কলিযুগের ভবিষ্যৎ — শ্রীকৃষ্ণের দৃষ্টিতে

মহাভারতের যুদ্ধের পর এক অলৌকিক শিক্ষা

Image
Image
Image
Image

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষ হয়েছে।
অসংখ্য প্রাণ ঝরে গেছে।
ধূলিময় রণক্ষেত্র আজ নীরব।

পাণ্ডবরা রাজ্য ফিরে পেয়েছেন। কিন্তু বিজয়ের আনন্দের মধ্যেও তাঁদের হৃদয়ে এক অদ্ভুত শূন্যতা।
যুদ্ধ জিতেছেন ঠিকই, কিন্তু মানবসমাজের ভবিষ্যৎ কী?

একদিন সন্ধ্যাবেলা, হালকা বাতাস বইছে। সেই সময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শান্ত কণ্ঠে বললেন—

“তোমরা বনে যাও।
যা কিছু অদ্ভুত দেখবে, ফিরে এসে আমাকে বলবে।”

পাঁচ ভাই বিনা প্রশ্নে রওনা হলেন।


🌳 প্রথম দর্শন — দুটি শুঁড়ের হাতি

Image
Image
Image
Image

ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির দেখলেন—
এক বিশাল হাতি।
কিন্তু তার দুটি শুঁড়!

তিনি বিস্ময়ে ফিরে এসে বললেন—
“কেশব, এমন হাতি কখনো দেখিনি।”

কৃষ্ণ মৃদু হাসলেন।

“ধর্মরাজ, কলিযুগে নেতৃত্ব এমনই হবে।
মানুষ এক কথা বলবে, আরেক কাজ করবে।
বাহ্যিক ধর্ম, অন্তরে স্বার্থ।
দুটি শুঁড় সেই দ্বিচারিতার প্রতীক।”

যুধিষ্ঠির নীরব হয়ে গেলেন।


🕊 দ্বিতীয় দর্শন — বেদমন্ত্র লেখা ডানা

Image
Image
Image
Image

অর্জুন দেখলেন—
একটি পাখির ডানায় বেদের মন্ত্র লেখা।
কিন্তু সে মৃত মাংস খাচ্ছে।

অর্জুনের হৃদয় কেঁপে উঠল।

কৃষ্ণ বললেন—

“পার্থ, কলিযুগে অনেকেই ধর্মের কথা বলবে।
তাদের মুখে শাস্ত্র থাকবে, কিন্তু অন্তরে লোভ।
সত্যিকারের সাধু বিরল হবে।”

অর্জুন বুঝলেন—
ধর্ম শুধু উচ্চারণ নয়, চরিত্রের বিষয়।


🐄 তৃতীয় দর্শন — রক্তাক্ত বাছুর

Image
Image
Image
Image

ভীম দেখলেন—
এক গাভী তার বাছুরকে এত বেশি চাটছে যে বাছুরটি রক্তাক্ত।

ভীম রেগে গেলেন।
“এ কেমন মায়া!”

কৃষ্ণ বললেন—

“ভীম, কলিযুগে মানুষ ভালোবাসার নামে সন্তানকে বেঁধে রাখবে।
নিজের স্বপ্ন চাপিয়ে দেবে।
অতিরিক্ত মমতা কখনো কখনো কষ্টের কারণ হয়।”

ভীম স্তব্ধ হয়ে গেলেন।


🕳 চতুর্থ দর্শন — শুকনো গভীর কুয়ো

Image
Image
Image
Image

সহদেব দেখলেন—
অনেক কুয়ো জলে পূর্ণ।
কিন্তু মাঝখানের গভীর কুয়োটি একেবারে শুকনো।

কৃষ্ণ ব্যাখ্যা করলেন—

“মানুষ উৎসব ও ভোগে ব্যয় করবে অঢেল ধন।
কিন্তু পাশের অভাবী মানুষকে ভুলে যাবে।
হৃদয়ের গভীরতা শুকিয়ে যাবে করুণার অভাবে।”

সহদেবের চোখ নত হয়ে গেল।


🪨 পঞ্চম দর্শন — ছোট গাছে থেমে যাওয়া শিলা

Image
Image
Image
Image

নকুল দেখলেন—
এক বিশাল শিলা পাহাড় থেকে গড়িয়ে আসছে।
কিছুই তাকে থামাতে পারছে না।
শেষে এক ছোট গাছের স্পর্শে থেমে গেল।

নকুল বিস্মিত।

কৃষ্ণ বললেন—

“ধন, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি—
মানুষকে পতন থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
কিন্তু—

🌱 হরিনামের একটি অঙ্কুর
মানুষকে ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে।”


🌼 কৃষ্ণের শেষ কথা

সব কথা শুনে পাণ্ডবরা নীরব।
কৃষ্ণ ধীরে বললেন—

“কলিযুগ অন্ধকারের যুগ।
কিন্তু এই যুগেই মুক্তির পথ সহজ।
নামসংকীর্তনই আশ্রয়।”


✨ আজকের প্রশ্ন

আজ আমরা কি এই দৃশ্যগুলো দেখছি না?

  • দ্বিচারী নেতৃত্ব
  • ধর্মের নামে ভণ্ডামি
  • ভালোবাসার নামে নিয়ন্ত্রণ
  • ভোগে মত্ত সমাজ

কৃষ্ণ বহু আগে সতর্ক করেছিলেন।

এখন সিদ্ধান্ত আমাদের—

👉 ভোগের পথ?
না
👉 ভক্তির পথ?


🙏 হৃদয়ের আহ্বান

আপনার হৃদয় যদি এই গল্প স্পর্শ করে থাকে—

💙 কমেন্টে লিখুন — রাধে রাধে
📤 এই গল্পটি শেয়ার করুন
🌿 ভক্তির আলো ছড়িয়ে দিন

কলিযুগের অন্ধকারে
একটি নামই যথেষ্ট—
হরে কৃষ্ণ।

আধ্যাত্মিক শিক্ষা
About wdteckofficial@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *